প্রকাশিত:
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
%20(1).jpg&w=3840&q=75)
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে:
ব্রেন্ট ক্রুড: প্রতি ব্যারেলের দাম ২.৮ শতাংশ বা ১ ডলার ৮২ সেন্ট বেড়ে ৬৫.৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ডব্লিউটিআই (WTI): প্রতি ব্যারেলের দাম ২.৯ শতাংশ বা ১ ডলার ৭১ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.০৭ ডলারে।
সামগ্রিকভাবে গত এক সপ্তাহে তেলের দাম গড়ে ২.৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা বাজারের উত্তাপ বাড়িয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল পরিবহনে জড়িত ৯টি জাহাজ ও ৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরান বর্তমানে চীনের অন্যতম বড় সরবরাহকারী।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র কাজাখস্তানের তেনগিজ-এ অগ্নিকাণ্ডের পর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শেভরনের নেতৃত্বাধীন এই তেলক্ষেত্রটি দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, জানুয়ারিতে কাজাখস্তানের উৎপাদন দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ১০-১১ লাখে নেমে আসতে পারে।
কৃষ্ণসাগর দিয়ে তেল রপ্তানির পথে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তেল পরিবহনকে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম বাড়লে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষণে জেপি মরগান বলেন, "উৎপাদন ঘাটতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে চীনের ধীরগতির অর্থনীতি এবং ওপেকের সরবরাহ নীতি বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।"