প্রকাশিত:
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন ও কাতারসহ অন্তত আটটি দেশ সফর করেছেন। এসব সফরে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথা প্রচার করা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা:
যুক্তরাজ্য: এফডিআই স্টকের শীর্ষে থাকা এই দেশ থেকে বিনিয়োগের নিট প্রবাহ কমেছে ৪০.৭১ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র: গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে পরিমাণ বিনিয়োগ এসেছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ পুঁজি হিসেবে ফেরত নিয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা।
চীন: প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফর এবং বিডার নানামুখী তৎপরতার পরও চীন থেকে নিট এফডিআই প্রবাহ কমেছে ৩.৩ শতাংশ।
কাতার: রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের সফরের পরও কাতার থেকে কোনো নতুন বিনিয়োগ আসেনি।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী: ১. বিনিয়োগ প্রস্তাবে ধস: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিডায় ৬৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের (১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা) চেয়ে ৫৮ শতাংশ কম।
২. অর্ধেকও পৌঁছায়নি: বর্তমানে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ জিডিপির মাত্র ২-৩ শতাংশ। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত বিনিয়োগ এই নিবন্ধিত পরিমাণের অর্ধেকেরও কম হচ্ছে।
৩. ছয় মাসে ৭১% পতন: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭১ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, বিডা এখনো পুরোনো আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই আটকে আছে। একটি সাধারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি পাঠানোর অনুমতি পেতেও বিদেশি কোম্পানিকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হয়রানির একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং আকিয়া স্পোর্টস কোং লিমিটেডের মালিক চার্লি তিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমানবন্দরে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ পেতে দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাই প্রধান বাধা। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ৭ শতাংশ, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন।”
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সরকারের প্রচারণার ধরন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো রাজনৈতিক সরকার নয় যে তাদের নিজেদের ঢোল পেটাতে হবে। শুধু আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে চিত্রায়ন না করে বিনিয়োগের প্রকৃত বাধাগুলো (আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, সুশাসন) সমাধান করা উচিত ছিল।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরের হয়রানি বন্ধ না করলে শুধু বিদেশে সেমিনার করে বিনিয়োগ আনা সম্ভব নয়।