প্রকাশিত:
৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা মহানগরে কোনো জমি বা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে মোট মূল্যের প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ নিবন্ধন খরচ হিসেবে দিতে হয়। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী:
নিবন্ধন খরচ বিদ্যমান হারের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে ১ কোটি টাকার সম্পদে যে ১২.৫ লাখ টাকা কর দিতে হয়, তা কমে প্রায় ৬ লাখ টাকার ঘরে চলে আসবে।
বর্তমানে এলাকাভেদে ২ থেকে ৫ শতাংশ উৎসে কর, ১.৫ শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক, ১ শতাংশ নিবন্ধন ফি এবং ৩ শতাংশ স্থানীয় সরকার ফি কার্যকর রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ২ থেকে ৪.৫ শতাংশ ভ্যাট। এই পুরো কাঠামোটি সহজ ও সাশ্রয়ী করার কথা বলা হয়েছে।
কমিটি ব্যাংক আমানতের ওপর থেকে আবগারি শুল্কের বোঝা কমানোর সুপারিশ করেছে:
১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে জমা থাকলে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না (বর্তমানে ৩ লাখ টাকা থাকলেই শুল্ক কাটা হয়)।
১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ওপর ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফেসবুক ব্যবসা (F-Commerce): ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যারা ব্যবসা করছেন, তাঁদের করের আওতায় আনতে একটি বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপহার কর: বর্তমানে নিকটাত্মীয়দের (মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান) সম্পদ উপহার দিলে কোনো কর দিতে হয় না। কমিটি প্রস্তাব করেছে যে, যেকোনো স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দিলে বাজারমূল্যের ১ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে।
কমিটি ছোট করদাতাদের সুরক্ষা এবং কর কাঠামো সরলীকরণের লক্ষ্যে আরও কিছু প্রস্তাব দিয়েছে:
রিটার্ন জমার সময় বাধ্যতামূলক ৫ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দেওয়ার বিধানটি তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে যে সারচার্জ দিতে হয়, তা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভ্যাটের বর্তমান জটিল ও বহুমাত্রিক হারের পরিবর্তে সব ক্ষেত্রে একটি একক ভ্যাট হার প্রবর্তনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে জমি-ফ্ল্যাট কেনা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে এবং কর নেট আরও শক্তিশালী হবে। তবে উপহারের ওপর কর এবং ফেসবুক ব্যবসার ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।