প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সোমবার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম হোসেন।
আজ সোমবার ছিল শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির তৃতীয় দিন। সকাল ৮টা থেকেই বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ পরিচালন কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
সকালে বন্দর ভবনে অনুষ্ঠিতব্য জাহাজ আগমনের শিডিউল নির্ধারণী ‘বার্থিং সভা’ আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে যায়। শিপিং এজেন্টদের কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো হলো: ১. এনসিটি ইজারা বাতিল: সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-এর কাছে টার্মিনালটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ২. বদলি আদেশ প্রত্যাহার: আন্দোলন নস্যাৎ করতে সম্প্রতি ১৬ জন কর্মচারীকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে বলে দাবি শ্রমিকদের। এই বদলি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
বার্থ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিক বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করেও কাজ হয়নি। জিসিবি টার্মিনালে পণ্য ওঠানো-নামানো ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
"শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে বদলি করার আদেশ প্রত্যাহার না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।" — ইব্রাহিম হোসেন, সমন্বয়ক, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথ ও কর্মস্থল ছাড়বেন না। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হলে বন্দরে জাহাজের জট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।