প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
গভর্নর জানান, বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকেই ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে কার্যকর পদক্ষেপ।
আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকরা একবারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন। আমানতের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগের পাশাপাশি নিয়মিত মুনাফা উত্তোলনের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
ড. আহসান এইচ মনসুর স্পষ্ট করেন যে, বিগত দুই বছরে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান বা ক্ষতি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গ্রাহকদের দুর্দশা বিবেচনা করে শরিয়াহ কাউন্সিলের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, "পাঁচটি ব্যাংক লোকসানে থাকা সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে আমানতকারীদের ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘অনুদান’, যার জন্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ বহন করছে রাষ্ট্র।" তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ইসলামী আইন অনুযায়ী লোকসানি অবস্থায় এটি মুনাফা নয়, বরং অনুদান হিসেবেই গণ্য।
ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) তুলনায় ব্যাংকের আমানতকারীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ৫টি ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ভার সবারই আছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সব দায় কেন শুধু সরকার নেবে?" তবে তিনি এটিও নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যাতে গ্রাহকরা তাদের আমানত ফিরে পান।
গভর্নর আশ্বাস দেন যে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা শরিয়াহ এবং আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।