প্রকাশিত:
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট এফডিআই ১৯ শতাংশ বাড়লেও এর পেছনের চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। এই বৃদ্ধি মূলত পুরোনো কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগ এবং সহযোগী কোম্পানি থেকে ঋণ নেওয়ার কারণে হয়েছে।
প্রকৃত উদ্বেগের জায়গা হলো নতুন বিনিয়োগ বা ইকুইটি ক্যাপিটাল। গত অর্থবছরে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৫৫ কোটি ডলার, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনা মহামারীর সময়েও (২০২০-২১) এই হার ছিল ৭২ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যেখানে ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার এফডিআই পেয়েছে, সেখানে ভারত (২৭ বিলিয়ন), ইন্দোনেশিয়া (২১ বিলিয়ন) এবং ভিয়েতনাম (২০ বিলিয়ন) বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে। এমনকি দুই বছর আগেও বাংলাদেশের পেছনে থাকা পাকিস্তান এখন বাংলাদেশকে টপকে গেছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে ১ বিলিয়ন ডলার বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে।
বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি না হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন:
উচ্চ সুদহার: ঋণের সুদ বর্তমানে ১৪-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
জ্বালানি সংকট: পর্যাপ্ত গ্যাস ও মানসম্মত বিদ্যুতের অভাব।
রাজস্ব নীতি: বিদ্যমান কর কাঠামো বিনিয়োগবান্ধব নয় বলে মনে করেন এফআইসিসিআই সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী।
অস্থিতিশীল পরিবেশ: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে নতুন বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা।
বিডার নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবের হারও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব গত বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব ৫৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আমলাতন্ত্রের বাইরে থেকে নিয়োগ পাওয়া আশিক চৌধুরী শুরুতেই সাহসী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু স্কাই ডাইভিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে চমক দিলেও বিডার কাজে তার প্রতিফলন কম বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, "আমরা সাহসী সংস্কার আশা করেছিলাম, কিন্তু দেড় বছরে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ছিটেফোঁটা যা হয়েছে তা খুবই নগণ্য।"
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সফর করলেও সেসব দেশ থেকে বিনিয়োগ আসার বদলে উল্টো কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিট বিনিয়োগ আসার চেয়ে ফেরত যাওয়ার (Repatriated) হারই বেশি ছিল।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আশিক চৌধুরী বলেন, "সাধারণত গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ নেতিবাচক থাকে, কিন্তু আমাদের এখানে তা স্থিতিশীল আছে—এটি একটি মিরাকল। ২০২৪ সালে যা হয়েছে, তারপর ২০২৫-এ কেন কেউ বিনিয়োগ করবে? অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা দেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।"