প্রকাশিত:
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এই ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা দেন। এটি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির আওতায়:
ভারতীয় পোশাকের ওপর বিদ্যমান ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে।
চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক খাবার, হস্তশিল্প ও গয়নার ক্ষেত্রেও বিশেষ শুল্ক সুবিধা মিলবে।
দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। ফলে চীন ও তুরস্কের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অর্ধেকের বেশি (প্রায় ১,৯৭১ কোটি ডলার) গেছে ইউরোপে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এত দিন শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এখন ভারত সমান সুবিধা পাওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দাম ও উন্নত মানের কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের চাপে পড়বে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল এই চুক্তিকে ভারতের টেক্সটাইল খাতের জন্য 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের সব সময় জিজ্ঞেস করা হতো, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রপ্তানি করে। তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত বলেই ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার দখল করেছিল। এখন ভারতও সেই সুবিধা পাবে এবং আমরা খুব দ্রুতই রপ্তানি ৭ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৩০-৪০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারব।"
ইউরোপীয় ইউনিয়নে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকদের তালিকায় বর্তমানে দেশগুলোর অবস্থান নিম্নরূপ:
১ম- চীন
২য়- বাংলাদেশ
৩য়- তুরস্ক
৪র্থ- ভারত
৫ম- কম্বোডিয়া
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটালে এমনিতেই শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তার ওপর ভারতের এই নতুন চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য 'মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা' হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক নীতির ধাক্কা সামলাতেও ভারত এই চুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।