প্রকাশিত:
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বোরো মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিটি গ্রামেই এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। দড়গ্রাম ইউনিয়নের বিলতালুক গ্রামের কৃষক সাদেক আলী এবার ৩৫ শতাংশ জমিতে ব্রি-২৯ জাতের ধান রোপণ করছেন। তিনি জানান, এবার শীত কম থাকায় কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে এবং চারার মানও বেশ ভালো। তবে সময়মতো সার ও পানির সরবরাহ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত তিনি।
বালিয়াটি ইউনিয়নের কৃষক শাহ আলমও তাঁর তিন বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর মতে, বোরো মৌসুমের অন্য জাতের তুলনায় ব্রি-২৯-এ ফলন বেশি পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সাটুরিয়ায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে ৩১৭ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় ব্রি ধান ২৯, ৫৮, ৮১, ৮২, ১০২, ১০৫ ও ১০৮-এর পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, "আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।"
তবে এই বাম্পার ফলনের পথে কিছু প্রতিবন্ধকতাও দেখছেন কৃষকরা:
সেচ ও বিদ্যুৎ: সেচ পাম্পে সময়মতো বিদ্যুৎ না থাকলে পানির অভাবে ফলন ব্যাহত হতে পারে।
জ্বালানি তেল: ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনের জন্য বাজারে পর্যাপ্ত ডিজেলের সরবরাহ থাকা জরুরি।
চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারের সংকট যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি এবং বিদ্যুৎ ও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় থাকলে সাটুরিয়ার কৃষকরা এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।