প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে এবং মোট মূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে বোয়িংয়ের সিয়াটল সদর দপ্তরে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটের আগেই এই মেগা ডিল সই হতে পারে বলে বিমান ও সরকারি উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান বহরে যুক্ত হবে অত্যাধুনিক সব উড়োজাহাজ:
৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার
২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার
৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স
বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ দিয়ে ২২টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। নতুন এই উড়োজাহাজগুলো আসলে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও পূর্ব এশিয়ায় রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চুক্তির গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চুক্তি এখন হলেও উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের মেয়াদে এর কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
২০২৪ সালের ডলার মূল্যের ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হলেও ২০৩১ সালে অর্থ পরিশোধের সময় মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী বিমান বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী এক দশক বিমানের বর্তমান সক্ষমতা সংকট কাটবে না। এই সময়ে বোয়িংয়ের কাছে ৪টি উড়োজাহাজ লিজ (ইজারা) চাওয়া হলেও এখনও কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি মেলেনি।
উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও এই চুক্তির দৌড়ে প্রবলভাবে সক্রিয় ছিল। এমনকি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর ঢাকা সফরের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে বিমানের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বোয়িংয়ের প্রস্তাবকে বেশি উপযোগী বলে মনে করায় শেষ পর্যন্ত মার্কিন এই কোম্পানিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিমানের এমডি ও সিইও মো. সাফিকুর রহমান বলেন, "বোয়িংয়ের পাঠানো চূড়ান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বোর্ডের অনুমোদন ও ন্যাশনাল নেগোসিয়েশন কমিটির সুপারিশ মিললেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে।"
এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, চুক্তিটি বিমানের জন্য ইতিবাচক হলেও তড়িঘড়ি করতে গিয়ে যেন জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা প্রয়োজন।