প্রকাশিত:
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারির প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৯৯ কোটি ডলার।
সাধারণত দুই ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা বিদেশের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দেশে আনছেন। যেসব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকে নির্বাচনী খরচ মেটানোর জন্য প্রবাসী আয়ের ছদ্মবেশে এই অর্থ আসছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স আসার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুতের ওপর।
বর্তমান রিজার্ভ: ৩২.২৬ বিলিয়ন ডলার (৩,২০০ কোটি ডলার)।
আগস্ট ২০২৪-এ রিজার্ভ ছিল: ২৫.৫৮ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভের সর্বোচ্চ রেকর্ড: ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের গতির কারণে দীর্ঘদিনের ডলার সংকট এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। একসময় ডলারের দাম ব্যাংক খাতে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠলেও বর্তমানে তা কমে ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকও বছরজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয় করেছে।
ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসার মাধ্যমে নতুন রেকর্ডের সূচনা হয়। এর আগে নভেম্বর মাসে ২৮৯ কোটি এবং জুলাই-আগস্টে যথাক্রমে ২৪৮ ও ২৪২ কোটি ডলার এসেছিল। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও এই প্রবাহ ছিল সন্তোষজনক।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকলে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো সহজ হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরবে। তবে নির্বাচনের পর এই প্রবাহের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।