প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বহির্নোঙরে অবস্থানরত ১০৪টি জাহাজের মধ্যে ৪৬টিই ছিল ভোগ্যপণ্যবাহী। এসব জাহাজে মোট ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টন পণ্য রয়েছে। অথচ গত বছর এই সময়ে ২৬টি জাহাজে পণ্য ছিল মাত্র ১২ লাখ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে গম (সাড়ে ১৩ লাখ টন)। এছাড়া ছোলা, ডাল ও তৈলবীজের বিশাল মজুদ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান এবার বড় পরিসরে পণ্য আমদানি করলেও তাদের নিজস্ব কোনো গুদাম বা সংরক্ষণাগার নেই। ফলে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য নেওয়ার পর ঘাটে নিয়ে দ্রুত খালাস করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে লাইটার জাহাজগুলোকেই 'ভাসমান গুদাম' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (ডব্লিউটিসিসি) আওতায় লাইটার জাহাজের সংখ্যা ১,২০০ থেকে কমে ১,০২২-এ নেমেছে।
২৬৫টি লাইটার জাহাজ ১০ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ঘাটে পণ্য নিয়ে আটকে আছে।
গত মঙ্গলবার ২৪টি বড় জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য কোনো লাইটার জাহাজই বরাদ্দ পায়নি।
আধুনিক খালাসব্যবস্থার অভাব এবং শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘শুভরাজ-৮’ নামক একটি লাইটার জাহাজ গত ১১ ডিসেম্বর থেকে গম নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ঘাটে আটকে আছে। দেড় মাসেও এটি খালাস করা সম্ভব হয়নি। আমদানিকারকদের দাবি, যাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে, তারা সময়মতো খালাস না নেওয়ায় এবং ঘাটে আধুনিক ক্রেন না থাকায় এই দীর্ঘসূত্রতা।
মেঘনা, সিটি বা আকিজের মতো বড় শিল্পগ্রুপগুলোর নিজস্ব ঘাট ও আধুনিক ক্রেন থাকায় তারা ১-২ দিনেই পণ্য খালাস করতে পারছে। কিন্তু যাদের নিজস্ব লাইটার জাহাজ বা ঘাট নেই, সেই সব বড় আমদানিকারকও এখন সাধারণ সিরিয়ালের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
ডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানান, আমদানির তুলনায় লাইটার জাহাজের সংখ্যা কম এবং খালাস ব্যবস্থায় আধুনিকতার অভাবই মূল সমস্যা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমদানিকারকদের দ্রুত পণ্য খালাসের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
পণ্য সরবরাহব্যবস্থায় এই স্থবিরতা দ্রুত নিরসন না হলে রমজানে বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।