প্রকাশিত:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬

ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল (এনএমসি) জম্মুতে অবস্থিত মেডিকেল কলেজ শ্রী মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের স্বীকৃতি বাতিল করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার ‘সাম্প্রদায়িকীকরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিজেপি ও কট্টরপন্থী বিভিন্ন দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী এই মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করার পর মেডিকেল কলেজটির স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এনএমসি। এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।
এমবিবিএস কোর্সে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) ফলাফলের ভিত্তিতে এ কোর্সে ৫০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের বেশির ভাগই কাশ্মীরের মুসলিম। তাদের দাবি, ওই শিক্ষার্থীদের বদলে হিন্দু শিক্ষার্থীদের নিতে হবে। সিংহভাগ আসন হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
জম্মু–কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সভাপতি মেহবুবা মুফতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণের ক্ষতিকর দিক স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করেছে। রোগের চিকিৎসা না করে এখানে রোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এ কলেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যদি এমনটা হতে পারে, তবে অন্যত্রও হবে। এতে পরিশ্রমী তরুণদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
জম্মু–কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) দলের মুখপাত্র ইমরান নবী দার বলেন, এ পদক্ষেপ বিজেপির বেপরোয়া ও অসংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ। এটি সাম্প্রদায়িক মানসিকতা থেকে নেওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো ধর্ম নেই, নেই কোনো ভৌগোলিক সীমানা। কিন্তু ভারতে সাম্প্রতিক এই ‘সংস্কার’ বা ‘পরিবর্তন’ বিজ্ঞানকে রাজনীতির হাতিয়ার করে তুলছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার চেয়ে যদি ঐতিহ্যের রাজনীতি বড় হয়ে ওঠে, তবে তা ভারতের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।