প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গত বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সচিব মাহাবুবা ফারজানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই পুরস্কার ঘোষণা করে। এতে আজীবন সম্মাননা পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুকে। উল্লেখ্য, তারেক মাসুদ ২০১১ সালে এবং আবদুল লতিফ বাচ্চু চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালার শর্ত ১ (খ) অনুযায়ী:
"আজীবন সম্মাননা পুরস্কারের জন্য শুধুমাত্র জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনা করা হবে।"
এই শর্তটি স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও মৃত দুই গুণী ব্যক্তিত্বকে কেন এবং কীভাবে মনোনীত করা হলো, তা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ এবং সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
জুরিবোর্ডের একাধিক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এই দুই ব্যক্তির নাম সুপারিশ করেননি। তাদের ভাষ্যমতে, জুরিবোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী শবনম ও ইলিয়াস জাভেদের নাম প্রস্তাব করেছিল।
জুরিবোর্ডের সদস্য ও চিত্রনায়িকা সুচরিতা জানান, "আমরা জাভেদ সাহেব ও শবনম আপার নাম দিয়েছিলাম। এক বছর ধরে ফাইল বিভিন্ন টেবিলে ঘুরেছে। নাম ঘোষণার পর দেখলাম ভিন্ন চিত্র।"
জুরিবোর্ড সদস্য অধ্যাপক এস এম ইমরান হোসেন বলেন, জুরিরা সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ক্যাবিনেট। তবে তিনি মনে করেন, বিধি অনুযায়ী জীবিতদেরই এই সম্মান দেওয়া উচিত ছিল। সরকার চাইলে নীতিমালা পরিবর্তন করে 'মরণোত্তর' বিভাগ চালু করতে পারে।
এই অসংগতির বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র শাখার উপসচিব শারমিন আখতারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য এস এম আবদুর রহমান জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টামণ্ডলী এবং ক্যাবিনেট ডিভিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এই প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।
তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চু দুজনেই চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি। তাদের সম্মাননা প্রাপ্তি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও, খোদ সরকারের তৈরি করা নীতিমালা লঙ্ঘিত হওয়ায় পুরস্কারের স্বচ্ছতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।