প্রকাশিত:
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১৬২৭ খ্রিস্টাব্দের এই অমূল্য রত্নটি একসময় মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রিয়তমা স্ত্রী নূর জাহানের মালিকানাধীন ছিল। হার্ট আকৃতির এই হীরার গায়ে খোদাই করা ফার্সি লিপি আজও সেই মোঘল আভিজাত্যের সাক্ষ্য দেয়। ইতিহাস বলছে, এটি নূর জাহানের পর ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরের সংগ্রহে যায় এবং ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর নিলামে বিক্রি হয়। বর্তমানে এটি ফরাসি জুয়েলারি হাউস 'কার্তিয়ের'-এর সংগ্রহে রয়েছে।
ভারতের নেটিজেন ও ইতিহাসবিদদের একটি বড় অংশ এই ঘটনায় কার্তিয়ের-এর তীব্র সমালোচনা করছে। তাঁদের দাবি, ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই হীরাটি কৌশলে ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সমালোচনার তীর আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে কার্তিয়ের-এর অতীত আচরণের কারণে।
২০২৩ সালে মেট গালায় ভারতীয় গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ পাতিয়ালার মহারাজার একটি ঐতিহাসিক নেকলেস পরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কার্তিয়ের তা ‘প্রদর্শনীতে আছে’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। অথচ ২০২২ সালে একই সংগ্রহের গয়না পরতে দেওয়া হয়েছিল মার্কিন ইউটিউবার এমা চেম্বারলেনকে। এই বৈষম্যমূলক আচরণকে দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যের অবমাননা ও পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
মার্গট রবির গলায় নূর জাহানের হীরাটি দেখে অনেকেই বিখ্যাত ‘কোহিনূর’ হীরা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিটি নতুন করে সামনে আনছেন। আন্তর্জাতিক মহলে এখন দাবি উঠছে যে, ব্যক্তিগত সংগ্রাহক বা বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর কাছে থাকা প্রাচীন রত্নগুলো অবিলম্বে তাদের উৎস দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছে এই হীরাটি এখন স্রেফ একটি অলংকার নয়, বরং এটি ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের সময় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতীক। ভারতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পদ ফেরানোর দাবি জানানো হলেও পশ্চিমা বিশ্বের অনীহা এই কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।