প্রকাশিত:
৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

গত রবিবার বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও যান্ত্রিক বা অন্যান্য কারণে তিনি যখন মঞ্চে গান গাইছিলেন, তখন হঠাৎ করেই তনয় শাস্ত্রী নামের এক কর্মকর্তা মঞ্চে উঠে পড়েন। মাঝপথে গান বন্ধ করে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়।
এই ঘটনায় অপমানিত বোধ করায় বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁকে জনসমক্ষে হেনস্তা করা হয়েছে এবং অপদস্থ করা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপের পর পুলিশ তনয় শাস্ত্রী ও আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি একেবারেই ভিন্ন। ক্লাবের কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, মিমি চক্রবর্তী নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা দেরিতে (রাত সাড়ে ১১টার পর) মঞ্চে ওঠেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মৌসুম এবং প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া রাত ১২টার সময়সীমার কারণে ঠিক সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়েছে।
কাউকে অসম্মান করা হয়নি, বরং নিয়ম মানতেই অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল। একে ‘অসম্মান’ হিসেবে গণ্য করা দুর্ভাগ্যজনক।
গ্রেপ্তারের পর তনয় শাস্ত্রী অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই তিনি মিমি চক্রবর্তীকে ‘ছেড়ে দেবেন না’ বলে হুমকি দেন। এ বিষয়ে মিমির প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "একজন মানুষকে যতটা গুরুত্ব বা ফুটেজ দেওয়া উচিত নয়, আমরা ইতোমধ্যেই তার চেয়েও বেশি দিয়ে ফেলেছি। আমি বিষয়টিকে আর গুরুত্ব দিতে চাই না।"
বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের নিয়ম রক্ষা নাকি ব্যক্তিগত ইগো—ঠিক কী কারণে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।