প্রকাশিত:
৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রায় ২৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন সবুজ খান। ২২ বছর ধরে তিনি কাজ করছেন সুপারস্টার শাকিব খানের ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী হিসেবে। এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে সবুজ খান বলেন, "আমার এই পুরস্কারটা আমি আমার বসকে (শাকিব খান) উৎসর্গ করছি। তাঁর কারণেই আজ আমি এই জায়গায়। তিনি সব সময় বলতেন—‘তুই একটা ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ডিজার্ভ করিস’।"
সবুজ খানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার সেই বৃদ্ধ লুক। সিনেমায় দৃশ্যটি ছিল মাত্র ৬-৭ মিনিটের, কিন্তু এর নেপথ্যের পরিশ্রম ছিল বিশাল।
প্রস্থেটিক মেকআপ: লুকটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল জটিল প্রস্থেটিক প্রযুক্তি। প্রথমে শাকিব খানের মুখমণ্ডলের মাপ নিয়ে বিশেষ আবরণ তৈরি করা হয় এবং একটি একটি করে চুল-দাড়ি বসানো হয়। প্রতিদিন এই মেকআপ দিতে সময় লাগত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। আর কাজ শেষে তা সযত্নে তুলতে লাগত আরও ৩ ঘণ্টা। মেকআপের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা দিয়ে অনায়াসে সিনেমার কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্য নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। একটি সূত্রের মতে, এই মেকআপের খরচ ছিল ৫ লাখ টাকারও বেশি।
সবুজ খানের বাড়ি শরীয়তপুরে। ঢাকায় মাদ্রাসায় পড়াকালীন বড় ভাই ফারুকের সূত্রে এফডিসিতে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। সেখান থেকেই রূপসজ্জার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সহকারী হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘নষ্ট ছাত্র’ সিনেমা দিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর কাজের সূচনা। বর্তমানে তাঁর অধীনে ১০ জন সহকারী মেকআপম্যান চলচ্চিত্র ও নাটকে কাজ করছেন।
দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় পর্দার আড়ালে কাজ করার পর এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়াকে নিজের স্বপ্ন পূরণ বলে মনে করছেন সবুজ খান। তাঁর এই জয় প্রমাণ করে, মানসম্মত মেকআপ ও কারিগরি দক্ষতা একটি চরিত্রকে কতটা অমর করে তুলতে পারে। চলচ্চিত্রের নেপথ্য কারিগরদের জন্য এই অর্জন এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।