প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

তুরস্কে পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় এবং মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে বলে দেশটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি মহাসড়কে। একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়।
অন্য একটি ঘটনায় তুরস্কের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশের একটি সংযোগস্থলে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ৭ জন প্রাণ হারান। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এই সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তুরস্কের জরুরি বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরে গুরুতর জখম রয়েছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসতর্কতা—কোন কারণে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্টালিয়াকে ঘিরে অবস্থিত এই উপকূলীয় অঞ্চলটি একটি জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র। এই পর্যটন কেন্দ্রে প্রতি বছর বহু বিদেশী পর্যটক ভ্রমণ করেন।
তুরস্কে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমাতে কঠোর ট্রাফিক আইন কার্যকর থাকলেও এ ধরনের প্রাণহানি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার এবং মহাসড়কে চলাচলের সময় নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।