প্রকাশিত:
গতকাল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কবলে পড়ে এবার দণ্ডিত হলেন সাবেক বিচারমন্ত্রী তাং ইজুন। প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার (১৩৭ মিলিয়ন ইউয়ান) ঘুষ গ্রহণের দায়ে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের শিয়ামেন ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
আদালতের রায়ে জানানো হয়, ২০০৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন তাং ইজুন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাকে অবৈধভাবে ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদান, ব্যাংকিং ঋণ মঞ্জুর এবং ভূমি অধিগ্রহণে সহায়তা করার বিনিময়ে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। আদালতের ভাষায়, তার এই অপরাধ "রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের চরম ক্ষতি করেছে।"
বিচারক তার রায়ে তাং ইজুনের সমস্ত রাজনৈতিক অধিকার আজীবনের জন্য কেড়ে নিয়েছেন এবং তার ব্যক্তিগত সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদালত উল্লেখ করেছে যে, গ্রেফতারের পর তাং নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন—যার ফলে তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের বিচারমন্ত্রী ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী তাং ইয়েজুন। কর্মজীবনে তিনি লিয়াওনিং প্রদেশের গভর্নর এবং নিংবো শহরের চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) প্রধানসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। একসময় তাকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলয়ের সদস্য বলে মনে করা হতো। তার এই সাজা বেইজিংয়ের শীর্ষ মহলে একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে যে, দুর্নীতির ক্ষেত্রে কারও প্রতি কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।
তাং ইজুন হলেন দ্বিতীয় বিচারমন্ত্রী যিনি দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হলেন। এর আগে ২০২২ সালে সাবেক বিচারমন্ত্রী ফু জেংহুয়াকেও একই ধরনের অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সমালোচকদের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। পূর্ব চীনের শিয়ামেন ইন্টারমেডিয়েট পিপলস কোর্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তাং ‘ক্রমাগতভাবে ধারণ করা পদগুলোর সঙ্গে যুক্ত সুবিধা’ অপব্যবহার করে ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির জন্য সুবিধা আদায়’ করেছেন।
এই রায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করল। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বড় রায়টি চীনের আসন্ন রাজনৈতিক সম্মেলনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।এই রায় আরও প্রমাণ করে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। জনসেবার পবিত্রতাকে যারা কলঙ্কিত করবে, তাদের জন্য কারাগারই চূড়ান্ত গন্তব্য।