প্রকাশিত:
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের রাজপথ। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) লন্ডন, প্যারিস, জেনেভা এবং রোমসহ ইউরোপের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। ২০২৬ সালের প্রথম বড় এই কর্মসূচি থেকে বিশ্বনেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি কয়েক হাজার মানুষ লন্ডনের রাসেল স্কয়ারে সমবেত হয়ে হোয়াইটহলের দিকে মিছিল নিয়ে যান। এই এলাকাতেই অবস্থিত ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো।
বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের নিন্দা করেন এবং ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি অব্যাহত রাখায় ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ এবং ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ স্লোগান দেন। এ সময় বক্তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রকৃত শান্তির পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা। লন্ডন পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ চলাকালীন আইন ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসেও ছিল একই চিত্র। প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। তারা ‘গাজা, গাজা—প্যারিস তোমার সাথে আছে’ স্লোগানে প্রকম্পিত করেন চারপাশ। প্যারিসের মিছিলে ফরাসি রাজনীতিক জিন-লুক মেলেনচনসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি তোলেন, ফ্রান্স সরকারকে অবিলম্বে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
কেবল লন্ডন বা প্যারিস নয়, বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মহাদেশে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে হাজার হাজার মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে গাজার মানচিত্র তৈরি করেন এবং ‘গাজায় গণহত্যা বন্ধ করো’ বলে চিৎকার করেন। ইতালির রাজধানীতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবিতে বিশাল মিছিল বের করা হয়। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও কয়েক হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, সুইডেনেও গাজায় ইসরাইলের হামলা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী স্টকহোমের ওডেনপ্ল্যান স্কয়ারে শত শত মানুষ জড়ো হন। বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরাইল লঙ্ঘন করছে। তারা গাজায় বিমান হামলা অব্যাহত রাখা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশ সীমিত করার জন্য ইসরাইলের সমালোচনা করেন।
উল্লেখ্য, অক্টোবরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি অভিযানে অন্তত ৫২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে গাজা ইস্যুতে ইউরোপীয় জনমতের সাথে তাদের সরকারগুলোর অবস্থানের বড় ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যে পরিবর্তন আসছে, তা নিয়ে ইউরোপীয় নাগরিকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।