প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।আইনজীবী আমির মউসাখানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গত শনিবার তাঁর মক্কেল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির সময় এরফান সোলতানির কাছ থেকে রেখে দেওয়া মুঠোফোনসহ সব জিনিস ফেরত দেওয়া হয়েছে।প্রায় ১২ হাজার ৬০০ ডলারের বিনিময়ে এরফান সোলতানিকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনজীবী আমির।
পেশায় পোশাক ব্যবসায়ী এরফান সোলতানিকে গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কারাজের ফারদিস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের মাত্র তিন দিনের মাথায় পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছিল যে এরফানের বিচার শেষ এবং ১৪ জানুয়ারি তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
মাত্র দুই দিনের সংক্ষিপ্ত বিচারে কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হেনগাও' এই ঘটনার প্রথম খবর দিলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরান সরকার পরে দাবি করে যে, এরফানকে আসলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে 'জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী কার্যকলাপ' ও 'রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার' অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ নয়। পরবর্তীতে আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে কারাদণ্ড প্রদান করে।
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া নিয়ে ইরানকে হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।
বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার মুখে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তেহরান। আর ইরানের একটি আদালত এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেন। ইরানের বিচার বিভাগ দাবি করেছে, তাঁকে নিরাপত্তা-সম্পর্কিত অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা একে 'বিবেক ও প্রতিবাদের জয়' হিসেবে দেখছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হেনগাও এই মুক্তিকে ইতিবাচক বললেও ইরানের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রেখেছে। তাদের মতে, এরফানের মুক্তি বিক্ষোভকারীদের দমনের নীতিতে বিশ্বজনমতের প্রভাবেরই ফলাফল।