প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। রাজ্যের দারভাঙ্গা জেলায় বিপুল সংখ্যক কাকের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ল্যাব পরীক্ষায় এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিহার সরকার পুরো রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা (High Alert) জারি করেছে।
গত কয়েক দিনে বিহারের দারভাঙ্গা জেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় শত শত কাক মারা যেতে দেখা যায়। স্থানীয় পশুপালন দপ্তর মৃত পাখির নমুনা সংগ্রহের পর তা ভোপালের পরীক্ষাগারে পাঠায়। গতকাল প্রাপ্ত রিপোর্টে H5N1 (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা) ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এর পরপরই প্রশাসন আক্রান্ত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। সংক্রমণ শনাক্তের পর দারভাঙ্গা পৌরসভা ও পশুপালন দপ্তরের বিশেষ মেডিকেল টিম জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জনসাধারণের সুরক্ষায় নিচের নির্দেশিকাগুলো মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে:
১. কোনো বাড়ির আশেপাশে মৃত বা অসুস্থ পাখি (কাক, মুরগি বা বুনো পাখি) দেখলে ভুলেও খালি হাতে স্পর্শ করবেন না।
২. কোনো এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে পাখির মৃত্যু হতে দেখলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসন বা নিকটস্থ পশু হাসপাতালে খবর
দিন।
৩. পোলট্রি পণ্য বা ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। মাংস বা ডিম অবশ্যই অন্তত ৭০°C তাপমাত্রায়
ভালো করে সেদ্ধ করে খেতে হবে।
৪. কাঁচা মাংস নাড়াচাড়ার পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং সম্ভব হলে হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করুন।
৫. যদি কারো তীব্র জ্বর, কাশি, মাংসপেশিতে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের
পরামর্শ নিন।
এছাড়াও অস্বাভাবিক পাখির মৃত্যু নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। পোলট্রি খামার ও বাজার এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এবং জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসটি বায়ুবাহিত হতে পারে, তাই জনাকীর্ণ স্থানে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।