প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পাকিস্তানের অস্থিরপ্রবণ প্রদেশ বেলুচিস্তানে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত ৪০ থেকে ৪২ ঘণ্টার এক টানা ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। প্রদেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জেরে এই বিশেষ অপারেশন চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (ISPR)।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর ডনের।
সেনা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং বিদ্রোহীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই অপারেশনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো এবং ফ্রন্টিয়ার কোর (FC) অংশ নেয়। বিদ্রোহীদের অবরুদ্ধ করতে ব্যবহার করা হয় গানশিপ হেলিকপ্টার এবং ড্রোন।
৪০ ঘণ্টা ধরে চলা এই বন্দুকযুদ্ধে বিদ্রোহীরা ভারী অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও সেনাবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সরাসরি নির্দেশ ও মদদে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও ভারত বরাবরই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, যখনই পাকিস্তানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তখনই ভারতের নির্দেশে এ ধরনের হামলা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।
অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত বিদ্রোহীরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, আইইডি (IED), রকেট লঞ্চার এবং বিদেশি মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে বিদ্রোহীদের বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বিএলএ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এক সেকেন্ডের জন্যও ছাড় দিতে প্রস্তুত নই। পাকিস্তানের এক ইঞ্চি জমিও তাদের ভাঙতে দেওয়া হবে না।
এই বড় ধরনের প্রাণহানির পর পুরো বেলুচিস্তান জুড়ে উচ্চ সতর্কতা (High Alert) জারি করা হয়েছে। প্রদেশের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন না করা পর্যন্ত এই ধরনের ‘ইন্টেলিজেন্স বেসড অপারেশন’ অব্যাহত থাকবে।
এই অভিযানের ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কোমর ভেঙে গেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো শক্তির সাথেই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা হবে না।
বেলুচিস্তানে এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফ্রান্স। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ইরানের দূতাবাস থেকে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সূত্র: ডন