প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এতে নতুন করে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এরপরেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এপস্টেইন ফাইলে পাওয়া একটি ই-মেইলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি নামও উঠে এসেছে।
ই-মেইলে আইসিডিডিআরবি'কে বাংলাদেশে একটি ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদী প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
আদালত কর্তৃক জনসমক্ষে আনা হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথিতে দেখা গেছে, জেফরি এপস্টেইন তাঁর জনহিতকর বা ‘ফিলানথ্রোপিক’ ইমেজ তৈরির অংশ হিসেবে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। নথির তথ্যানুযায়ী, এপস্টেইনের ব্যক্তিগত ডায়েরি বা নথিতে icddr,b-এর নাম মূলত অনুদান বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য প্রকল্পের আলোচনার প্রেক্ষিতে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এপস্টেইনের অর্থায়ন বা নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিল।
ওই-মেইলে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবিকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ভবিষ্যতে উৎপাদিত যেকোনো প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফা থেকে ৩ শতাংশ নিশ্চিত লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে ই-মেইলে বলা হয়েছে।
কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ফাইলে অন্তর্ভুক্ত আরেক ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন।তবে ওই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় বিবৃতি না এলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে icddr,b একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুদান গ্রহণ করে। এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আসার বিষয়টি মূলত তাঁর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অংশ হতে পারে, যেখানে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
জেফরি এপস্টেইন কম বয়সী মেয়েদের যৌন পাচার এবং নির্যাতনের অভিযোগে কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সাথে যোগাযোগ ছিল এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়মিত প্রকাশ করছে মার্কিন আদালত। এই তালিকায় নাম থাকা মানেই অপরাধী হওয়া নয়, তবে এটি ওই ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক মানদণ্ড ও প্রভাবশালীদের সাথে গোপন লেনদেনের দিকে ইঙ্গিত করে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সময় বৈশ্বিক নামী প্রতিষ্ঠানগুলো না জেনেই বিভিন্ন দাতা সংস্থার মাধ্যমে বড় বড় ফান্ড গ্রহণ করে। তবে এপস্টেইনের মতো ব্যক্তির নথিতে নাম আসা ওই প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ইমেজ বা ভাবমূর্তির জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে।