প্রকাশিত:
গতকাল

এক বিভীষিকাময় রাত পার করল ভারতের সিকিম রাজ্য। গত মধ্যরাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দফায় দফায় এই কম্পনের ফলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা তীব্র শীত উপেক্ষা করেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এই কম্পনের প্রভাব পার্শ্ববর্তী নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এসব কম্পন হয়। এতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪.৫। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের গ্যালসিং (Gyalshing) এলাকা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এরপর থেকে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কয়েক মিনিট পরপর ছোট-বড় আরও ১২টি আফটারশক (Aftershocks) অনুভূত হয়। এর মধ্যে মঙ্গন ও নামচি এলাকায় ৫টি এবং রাজধানী গ্যাংটকে ৪টি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সাড়ে চার ঘণ্টায় আরও ১২ বার কেঁপে ওঠে সিকিম। এর মধ্যে মঙ্গন এলাকায় ৭টি ও নামচিতে ৪টি কম্পন রেকর্ড করা হয়। এছাড়া রাজধানী গ্যাংটকেও ৩ দশমিক ১ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়।
মাঝরাতে হঠাৎ তীব্র কম্পনে সিকিমের ঘরবাড়ি ও হোটেলগুলো কাঁপতে শুরু করলে মানুষের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। বিশেষ করে গ্যাংটকে অবস্থানরত শত শত পর্যটক আতঙ্কে হোটেলের নিচে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "প্রথমবার কম্পনের পর আমরা ঘরে ফিরেছিলাম, কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর আবারও মাটি কাঁপতে থাকায় আর ভেতরে যাওয়ার সাহস পাইনি। সারা রাত কনকনে ঠান্ডায় রাস্তার ওপর কাটাতে হয়েছে।"এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাহাড়ি এলাকার কিছু পুরনো বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি জায়গায় ছোটখাটো ধসের (Landslide) খবর পাওয়া গেছে।
সিকিমের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর জনপদেও এই কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী এবং দিনাজপুর জেলায় রাত ১টার দিকে মানুষ তীব্র কম্পনে সজাগ হয়ে যায়। অনেক জায়গায় লোকজন মসজিদ থেকে আজান দিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম হিমালয়ের ‘মেইন বাউন্ডারি থ্রাস্ট’ (MBT) ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের ঘর্ষণের ফলে সঞ্চিত শক্তি নির্গত হওয়ার কারণে এই দফায় দফায় কম্পন হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অঞ্চলে ছোট ছোট আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।