প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ ঘোষণার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কর্তৃক ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টার পাল্টা জবাব হিসেবে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যৌথভাবে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এ ঘোষণা দেন। খবর আনাদোলুর।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আইআরজিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া যেকোনো পরিস্থিতির দায়ও ইইউকে নিতে হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি মূলত একটি ‘পারস্পরিক পাল্টা পদক্ষেপ’। গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে আইআরজিসি-র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করছিল। তেহরানের দাবি, ইউরোপীয় সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরে ইউরোপীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
ইউরোপীয় জোটের এই সিদ্ধান্তে এখন চাপ বাড়ছে যুক্তরাজ্যের ওপর, যারা এখনও আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেনি। তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে দেশটি।
ইউরোপের এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, এই মুহূর্তে বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, অথচ ইউরোপ আগুনে ঘি ঢালছে।
ব্রাসেলস এবং ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরানের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং এটি আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের পরিপন্থী। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী।
পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে, কানাডা ২০২৪ সালে এবং অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ইরানের এই সাহসী কিন্তু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাদের সংঘাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব সম্প্রদায় এখন লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। এই কূটনৈতিক যুদ্ধ কি শেষ পর্যন্ত সামরিক যুদ্ধে রূপ নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।