প্রকাশিত:
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে অনিয়ম হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।
তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে যদি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে জামায়াতে ইসলামীর মতো চরমপন্থী দলগুলোর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে নির্বাচনে যদি বড় ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হয়, কেবল সেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে।
গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কেউ তাদের (জামায়াত) আগে নিয়ে আসছে। তারপরও নির্বাচনে অনিয়ম হলেই তারা (ক্ষমতায়) আসতে পারবে। নয়তো আসা অসম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনে’ কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। তাদের সেরকম জনসমর্থন নেই।
শ্রিংলার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে 'অসাম্প্রদায়িক ও স্থিতিশীল' সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শ্রিংলার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রিংলার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে:
জামায়াতে ইসলামী: দলটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ ও ‘ভিত্তিহীন আশঙ্কা’ বলে অভিহিত করেছেন।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, শ্রিংলা মূলত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভঙ্গুরতার দিকেই আঙুল তুলেছেন। যদি নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে সেটি যে কোনো তৃতীয় শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দীর্ঘকাল সরাসরি বাংলাদেশের বিষয়গুলো তদারকি করেছেন। তাঁর এই আগাম সতর্কতা ইঙ্গিত দেয় যে, দিল্লি বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং উগ্রবাদ দমনে ঢাকার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রিংলার এই বক্তব্য কি কেবল একটি ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, নাকি এর পেছনে দিল্লির কোনো বিশেষ বার্তা লুকায়িত আছে—তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।