প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাকিস্তান সরকার তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পর জনপ্রিয় গণমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লতিফ তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তার মতে, শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতা না এলে সেটি হবে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক চরম বিপর্যয়।
লতিফ আশাবাদী যে পর্দার অন্তরালে এখনো আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, "সবসময়ই একটি পর্দার আড়ালের কূটনীতি কাজ করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনেক কিছুই পাল্টে যেতে পারে।"
তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ভারতের চেয়ে সরাসরি আইসিসির ব্যবসায়িক মডেলে বেশি আঘাত করবে। বিশ্বকাপের দর্শকপ্রিয়তার ৬০-৭০ শতাংশই নির্ভর করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর।
বাংলাদেশের ঘটনার প্রভাব: লতিফ স্পষ্ট করেছেন যে, এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির আচরণ। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ভারতে খেলতে না চাওয়ায় তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়। লতিফের মতে, "পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা আগে সচরাচর দেখা যেত না।"
এই বয়কট কেবল এই বিশ্বকাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ২০২৬-এর নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৮-এর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (যা ভারতের মাটিতে হওয়ার কথা) সেখানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তান সরকার পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও কেবল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার নির্দেশনা দিয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তানের এই 'নির্বাচনমূলক অংশগ্রহণ'কে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে। আইসিসি জানিয়েছে, এটি বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মূল চেতনার পরিপন্থী এবং এর ফলে পাকিস্তান বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারে।
"ব্যবসায়ীরা হয়তো সরকারের ঊর্ধ্বে, কিন্তু এখন খেলাটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে শক্তিশালী সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চয়ই কোনো একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।" — রশিদ লতিফ
ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন দুবাই ও ইসলামাবাদের দিকে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে, নাকি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের সাক্ষী হবে বিশ্ব।