প্রকাশিত:
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি তাৎপর্যপূর্ণ নীতিমালার ঘোষণা দেয়। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় কোনো প্রতিযোগিতায় ভারত পাকিস্তানে যাবে না এবং পাকিস্তানের কোনো দলকেও ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না। কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারী হামলা ও আকাশ-সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই-এর ওপর যখন জনরোষ ও চাপের পাহাড়, তখনই এই ‘বয়কট’ নীতি আসে।
তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর গত মাত্র ৫ মাসেই ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল বিভিন্ন পর্যায়ে ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ৩ বার তাদের মাঠে নামার কথা রয়েছে।
কেন এই বয়কটের ঘোষণা মাঠের ক্রিকেটে প্রভাব ফেলছে না? এর মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সম্প্রচার স্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি (ICC) ও এসিসি (ACC) ইচ্ছাকৃতভাবেই ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখে যাতে অন্তত একটি ম্যাচ নিশ্চিত হয়।
এসিসির বাণিজ্যিক বিভাগের সাবেক প্রধান প্রভাকরণ থানরাজ ইতিপূর্বে স্বীকার করেছিলেন যে, এশিয়া কাপের পুরো তহবিলের সিংহভাগই আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। সম্প্রচারকদের কাছে এই একটি ম্যাচের গুরুত্ব টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচের চেয়ে বেশি। ফলে জনদাবি উপেক্ষা করে বোর্ডগুলো টুর্নামেন্টের কাঠামোর সুযোগ নিয়ে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো আয়োজন করে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালে দেখা যায় এক নজিরবিহীন ব্যস্ততা:
ফেব্রুয়ারি ২০২৫: চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে লড়াই।
সেপ্টেম্বর ২০২৫: এশিয়া কাপে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ বার (গ্রুপ পর্ব, সুপার ফোর ও ফাইনাল) মুখোমুখি হয় দুই দেশ।
অক্টোবর ২০২৫: নারী বিশ্বকাপে লিগ পর্বের ম্যাচ।
নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫: এসিসি রাইজিং স্টারস ও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব ও ফাইনালে লড়াই।
আজ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। আজকের দিনেই আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্স ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এখানেই শেষ নয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে লড়বে দুই দেশের জাতীয় দল। একই দিনে থাইল্যান্ডে নারী রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপেও মুখোমুখি হবে দুই দেশের ‘এ’ দল।
রাজনীতিবিদরা যখন সীমান্তে কড়াকড়ি আর নীতিমালায় ‘বয়কট’ শব্দ জুড়ে দিচ্ছেন, ক্রিকেট বোর্ডগুলো তখন টুর্নামেন্টের মোড়কে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথকে বাণিজ্যিক লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। এই পরিস্থিতিকে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ‘এক অদ্ভুত বয়কট’ হিসেবেই অভিহিত করছেন।