প্রকাশিত:
গতকাল

এই পরিবর্তনগুলোকে দিল্লির জন্য বড় ধরনের কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নিচে সংবাদের মূল অংশগুলো তুলে ধরা হলো:
১. ডাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের দাবি প্রত্যাহার
আগের খসড়ায় উল্লেখ ছিল যে, ভারত আমেরিকান ডালজাত পণ্যে শুল্ক কমাবে। তবে সংশোধিত নথিতে ‘নির্দিষ্ট কিছু ডাল’ (specific pulses) শব্দটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডাল উৎপাদক ও ভোক্তা হওয়ায় দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উচ্চ শুল্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ছিল, যেখানে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন নতিস্বীকার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. ৫০০ বিলিয়ন ডলারের 'বাধ্যবাধকতা' এখন 'ইচ্ছা'
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে পণ্য কেনার অঙ্গীকারে। আগের নথিতে বলা হয়েছিল, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনতে 'বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার' করেছে। কিন্তু সংশোধিত সংস্করণে 'অঙ্গীকার' শব্দের বদলে বলা হয়েছে, ভারত এই পরিমাণ পণ্য কেনার 'ইচ্ছা প্রকাশ' করেছে। অর্থাৎ, এটি এখন আর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
৩. ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স ও কৃষিপণ্য
ডিজিটাল ট্যাক্স: আগে বলা হয়েছিল ভারত ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স তুলে নেবে। এখন বলা হচ্ছে, কর তোলা নয় বরং ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভারত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রাজি হয়েছে।
কৃষিপণ্য: আমদানির তালিকা থেকে ‘কৃষিপণ্য’ শব্দটি সরিয়ে সেখানে জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কয়লার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
৪. শুল্ক হ্রাস ও ভূ-রাজনীতি
রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ট্রাম্প প্রশাসন আগে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিল। সমঝোতার পর সেই শুল্ক এখন ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করবে, তবে এ বিষয়ে ভারত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত বাণিজ্য নীতির মুখে ভারত অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই দর-কষাকষিতে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।