প্রকাশিত:
গতকাল

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ আরও ১৭ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ভেন্তে ভেনেজুয়েলা। তাদের মুক্তির তথ্যটি বেসরকারি সংস্থা ক্লিপভে-ও নিশ্চিত করেছে। মুক্তদের মধ্যে ৭ জন নারী আছে বলেও জানিয়েছে তারা।
কয়েকদিন আগেই ভেনেজুয়েলার এক রাজনৈতিক নেতাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে ফের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
শনিবার বিকেলে কারাকাসের কারাগারের ফটক দিয়ে বন্দিরা বেরিয়ে আসার সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ বা বন্দি থাকা স্বজনদের ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে শিক্ষার্থী নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী এবং কয়েকজন সাংবাদিক রয়েছেন, যাদের ওপর বিগত সরকার 'বিদ্রোহ' ও 'সন্ত্রাসবাদের' অভিযোগ এনেছিল।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জে রদ্রিগেজ এই মুক্তির খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এটি প্রস্তাবিত 'ন্যাশনাল অ্যামনেস্টি বিল' (National Amnesty Bill) বা সাধারণ ক্ষমা আইনের একটি প্রাথমিক প্রতিফলন। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো গত ২৭ বছরে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বন্দি হওয়া প্রায় ১,০০০ জন মানুষকে মুক্তি দেওয়া।অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশে ভয়ের সংস্কৃতি দূর করা প্রয়োজন।
ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার সংগঠন 'ফোরো পেনাল' (Foro Penal) এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কিছু শর্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রধান জানান,মুক্তি পাওয়া ১৭ জনের মধ্যে কয়েকজনকে 'শর্তসাপেক্ষ মুক্তি' দেওয়া হয়েছে, যার মানে তাদের প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এখনো প্রায় ৫০০-এর বেশি মানুষ রাজনৈতিক কারণে কারাগারে রয়েছেন, যাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাও আছেন।
এদিকে কয়েক মাসের চরম উত্তেজনার পর জানুয়ারির প্রথম দিকে কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। পরে মাদুরোর মিত্র ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও তেল আইন সংস্কারের মতো পদক্ষেপ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই বন্দি মুক্তিকে "ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পুনর্জন্মের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ" হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ১৭ জনের মুক্তি কারাকাসের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
ভেনেজুয়েলায় এই ১৭ জনের মুক্তি কেবল ১৭টি পরিবারের পুনর্মিলন নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের সংঘাতময় রাজনীতির অবসানের একটি সংকেত। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে ১৯শে ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন সাধারণ ক্ষমা আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে দেশটির কারাগারগুলো রাজনৈতিক বন্দিশূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।