প্রকাশিত:
গতকাল

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট এবার আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের পক্ষ থেকে পিডিবিকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করা হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এই হুঁশিয়ারির পর গরমের মরসুম আসার আগেই দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পিডিবির চেয়ারম্যানের কাছে গত ২৯ জানুয়ারি চিঠিটি পাঠিয়েছেন আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ। এতে বলা হয়, চুক্তি অনুসারে তাদের পাওনা ৫৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ধরে যা ৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।
আদানি গ্রুপের দাবি, বকেয়া বাড়তে থাকায় কয়লা সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পাওনা না পেলে যেকোনো সময় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া বা বন্ধ করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় বিল পরিশোধের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে।গত মাসে (জানুয়ারি ২০২৬) পিডিবি প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে, যা আদানির দাবির তুলনায় অনেক কম। পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বকেয়া শোধের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী মার্চ মাস থেকে পরিশোধের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার পরিশোধের অনুরোধ জানানো হয়েছে আদানির চিঠিতে। এতে বলা হয়, এর মধ্যে দেরিতে বিল পরিশোধের সারচার্জ আছে ৫ কোটি ৩২ লাখ ডলার। গত বছরের জুন পর্যন্ত হিসাবে এ পাওনা আদানির। আর ৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার হলো অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ বিল। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও গত মাসে মাত্র ৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে পিডিবি।
উল্লেখ্য যে, আদানির সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা চলমান রয়েছে। সরকারের গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি ইতিমধ্যে আদানির চুক্তিতে বিভিন্ন অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। আদানি কয়লার দাম বাজারদরের চেয়ে বেশি ধরছে বলে পিডিবি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।
যদি আদানি গ্রুপ তাদের সরবরাহ কমিয়ে দেয়, তবে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বড় একটি অংশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে আদানি গ্রুপ।
একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে বকেয়া পরিশোধের চাপ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সরকার ও পিডিবি সময়মতো অর্থ সংস্থান করতে না পারলে আসন্ন গ্রীষ্মে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে।