প্রকাশিত:
গতকাল

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি এবং রণপ্রস্তুতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে লোহিত সাগরে মোতায়েন করা বিমানবাহী রণতরী পরিদর্শন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর বড় ধরনের কোনো সামরিক পরিদর্শন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের যে নীতি ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন, এই সফর তারই একটি শক্তিশালী মহড়া।
স্থানীয় সময় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। স্টিভেন উইটকফ মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (USS Abraham Lincoln) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন:
"প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ এবং আমাদের মিত্রদের ওপর যেকোনো আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমাদের নৌবাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত।"
উইটকফ তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, বিমানবাহী রণতরী এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ আমাদের নিরাপদ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তির বার্তা সমুন্নত রাখছে। একইসাথে তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শিগগিরই আলোচনা হবে বলেও জানান।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ৫টি কঠোর শর্ত দিয়েছে। ইরান সেই শর্তগুলোকে ‘অসম্ভব’ বলে অভিহিত করার পরপরই উইটকফের এই রণতরী পরিদর্শনকে একটি ‘কূটনৈতিক সংকেত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বোঝাতে চেয়েছে যে, কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প তাদের হাতে সবসময় খোলা রয়েছে।
লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে মার্কিন নৌবহর সেখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। উইটকফ সেনাদের মনোবল বাড়াতে এবং হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’-এর অগ্রগতি যাচাই করতেই এই পরিদর্শনে যান। তিনি বিশেষ করে হুতিদের প্রতি ইরানের মদত বন্ধ করার ওপর জোর দেন।
উইটকফের এই সফর কেবল ইরানকে হুমকি দেওয়া নয়, বরং ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মতো মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করা যে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নিরাপত্তায় আগের চেয়েও বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রণতরী থেকে উইটকফ সরাসরি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের দূতের এই পরিদর্শন মূলত ‘শান্তি রক্ষার জন্য শক্তির প্রদর্শন’ (Peace through Strength)। একদিকে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে রণতরীতে বিশেষ দূতের অবস্থান জানান দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
ইরানে সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি বৃদ্ধির সাথে সাথে গত জানুয়ারিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়।
গত শুক্রবারের আলোচনা ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার পর প্রথম দফা, যা গত বছর ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানোর পর ভেঙে যায়। সেই ঘটনার কারণে ১২ দিনের যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
ওই যুদ্ধের সময় মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।সূত্র: এএফপি।
স্টিভেন উইটকফের এই সফর মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন এই রণকৌশলের বিপরীতে ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়।