প্রকাশিত:
গতকাল

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৬৬ শতাংশ। তা নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৪৯ শতাংশে নামলেও সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি বাজার।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "দীর্ঘ সময় সংকোচনমূলক নীতি চালিয়েও মূল্যস্ফীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।"
মাহফুজ কবিরের মতে, আগের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি দমনে ব্যর্থ হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও উচ্চ সুদের হারের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কার্যত থমকে গেছে। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিডা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নামে সময় নষ্ট করেছে। প্রধান উপদেষ্টা বিদেশি সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও বিজিএমইএ সভাপতির মতো দেশি উদ্যোক্তারা তাঁর দেখা পান না। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের গুরুত্ব না দেওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।"
আর্থিক খাতে সংস্কারের কথা বলা হলেও সবচেয়ে বড় ক্ষত ‘খেলাপি ঋণ’ নিয়ন্ত্রণে সরকার চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিসংখ্যান: ২০২৫ সাল শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩৩ শতাংশের বেশি।
আইনি দুর্বলতা: কোনো রাজনৈতিক চাপ না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক আইন পাস করতে না পারাকে সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক নজরে অর্থনীতির বর্তমান চিত্র (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
সূচক বর্তমান অবস্থা মন্তব্য
মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯% এখনো উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে
রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ইতিবাচক (রেমিট্যান্সের প্রভাবে)
দারিদ্র্যের হার ২১% - ২৭.৯৩% প্রকৃত আয় কমায় দারিদ্র্য বেড়েছে
খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা+ মোট ঋণের ৩৩% এর বেশি
সব নেতিবাচক খবরের মাঝে একমাত্র স্বস্তির জায়গা হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। দায়িত্ব নেওয়ার সময় রিজার্ভ ১৫ বিলিয়নের ঘরে থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহই এই পরিবর্তনের মূল কারিগর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ইতিবাচক হলেও উচ্চ সুদহার, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং খেলাপি ঋণের সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। অর্থনীতির চাকা সচল করতে এখন সংস্কারের চেয়েও দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি।