প্রকাশিত:
গতকাল

বিদেশ থেকে স্বর্ণ বা সোনা আনার নিয়মাবলী নিয়ে অনেক সময় যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। ২০২৬ সালের বর্তমান ‘ব্যাগেজ বিধিমালা’ (Baggage Rules) অনুযায়ী শুল্কমুক্ত এবং শুল্ক দিয়ে স্বর্ণ আনার নিয়ম ও ট্যাক্সের হিসাব নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
আপনি যদি বিদেশ থেকে আসার সময় নিজের বা পরিবারের জন্য স্বর্ণ আনতে চান, তবে বাংলাদেশ কাস্টমসের নিয়মগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম না মেনে স্বর্ণ আনলে বিমান বন্দরে তা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক ভরি ভালো মানের স্বর্ণ কিনতে খসাতে হবে আড়াই লাখেরও বেশি টাকা। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনা হতে পারে অন্যতম ও বুদ্ধিমানের কাজ।তবে ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণ-গহনা আনতে পারবেন এবং কতটুকুর বেশি স্বর্ণ আনতে হলে দিতে হবে শুল্ক-কর, তা জানতে হবে।
ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য অথবা অন্য দেশ থেকে দেশে ফেরার সময় শুল্কমুক্ত সুবিধায় স্বর্ণের গহনা আনতে পারবেন। আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক দিয়ে স্বর্ণের বার দেশে আনার সুযোগ আছে।
যাত্রীরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য স্বর্ণের অলঙ্কার শুল্কমুক্ত অর্থাৎ কোনো ট্যাক্স ছাড়াই আনতে পারেন। তবে এর নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যেমন, একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম (প্রায় ৮.৫৭ ভরি) ওজনের স্বর্ণালঙ্কার শুল্কমুক্ত আনতে পারবেন। একই ধরনের অলঙ্কার (যেমন শুধু চেইন বা শুধু আংটি) ১২টির বেশি আনা যাবে না। ১০০ গ্রামের বেশি অলঙ্কার আনলে সেটির জন্য প্রচলিত হারে শুল্ক (ট্যাক্স) দিতে হবে এবং কাস্টমসের কাছে তা অবশ্যই ঘোষণা করতে হবে।
স্বর্ণের বার বা বিস্কুট কখনোই শুল্কমুক্ত নয়। এটি আনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম (১০ তোলা বা ১০ ভরি) ওজনের স্বর্ণের বার শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে আনতে পারবেন।২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) ৫,০০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে। অর্থাৎ একটি ১০ ভরির গোল্ড বার আনলে আপনাকে কাস্টমসে মোট ৫০,০০০ টাকা ট্যাক্স জমা দিতে হবে।একজন যাত্রী বছরে কেবল একবারই এই সুবিধায় স্বর্ণের বার আনতে পারবেন।
রুপার অলঙ্কার সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম পর্যন্ত শুল্কমুক্ত আনা যাবে। রুপার বার সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম (২০ ভরি) পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধ করে আনা যাবে।
বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের একটি ফরম পূরণ করতে হয়—ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম। এই ফরমে যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ফ্লাইট নম্বর, জাতীয়তা এবং কোন দেশ থেকে এসেছেন—এ ধরনের তথ্য উল্লেখ করতে হয়। পাশাপাশি শুল্কযোগ্য কোনো পণ্য থাকলে তার বিবরণও দিতে হয়। নির্ধারিত সীমার বেশি হলে অতিরিক্ত অংশের জন্য শুল্ক দিতে হবে।
জামাকাপড়, অন্তর্বাস বা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে স্বর্ণ আনা চোরাচালান হিসেবে গণ্য হয়। এতে স্বর্ণ বাজেয়াপ্তসহ জেল-জরিমানা নিশ্চিত।আপনার কাছে যদি শুল্কমুক্ত সীমার (১০০ গ্রাম অলঙ্কার) বেশি কিছু না থাকে, তবেই আপনি সরাসরি 'গ্রিন চ্যানেল' দিয়ে বের হতে পারবেন।
এছাড়া ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক প্রযোজ্য নয়, সেসব পণ্য নিয়ে যাত্রীরা গ্রিন চ্যানেল দিয়ে সরাসরি বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারবেন।