প্রকাশিত:
গতকাল

আজ তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক, ইউটিউবে তাঁর গান ছুঁয়েছে কোটি কোটি ভিউ। কিন্তু জনপ্রিয় কানাডীয় গায়ক ও র্যাপার এপি ধিলনের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি জনপ্রিয় শো ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কাপিল শর্মা শো’–এ হাজির হয়ে নিজের জীবনের কঠিন শুরুর দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
২০১৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যখন তিনি প্রথম ভারতের পাঞ্জাব থেকে কানাডায় পা রাখেন, তখন তাঁর হাতে ছিল মাত্র কিছু নগদ টাকা এবং দুটি সুটকেস। জেট ল্যাগের ক্লান্তি নিয়ে একটি হোটেলে রুম বুক করতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। হোটেলের কর্মীরা তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, ক্রেডিট কার্ড ছাড়া রুম দেওয়া সম্ভব নয়।
এপি ধিলন বলেন,
"আমার কাছে পর্যাপ্ত নগদ টাকা থাকলেও কোনো ক্রেডিট কার্ড ছিল না। কোনো হোটেলই আমাকে আশ্রয় দিচ্ছিল না। নিরুপায় হয়ে হোটেলের বাইরে রাস্তার পাশে ফুটপাতে সুটকেস পেতে সেখানেই রাত কাটাতে বাধ্য হই।"
টানা দুই রাত রাস্তায় কাটানোর পর এক ভারতীয় তরুণীর নজরে পড়েন তিনি। সেই তরুণী তাঁর অবস্থা বুঝতে পেরে নিজের বয়ফ্রেন্ডের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এপি ধিলনের জন্য একটি হোটেলের রুম বুক করে দেন। সেই রাতের কৃতজ্ঞতা আজও ভোলেননি ধিলন। এরপর টিকে থাকার লড়াইয়ে তিনি পেট্রোল পাম্প এবং কনভিনিয়েন্স স্টোরে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেছেন। কাজের ফাঁকেই চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা আর গান তৈরির স্বপ্ন।
সংগ্রামের দিন পেছনে ফেলে আজ এপি ধিলন আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত নাম। তাঁর জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে—‘ব্রাউন মুন্ডে’, ‘এক্সকিউজ’, ‘ইনসেন’, ‘উইথ ইউ’, ‘দিল নু’ ইত্যাদি। এই গানগুলো তাঁকে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, বিশ্বসংগীতের পরিমণ্ডলেও পরিচিত করে তুলেছে। ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাঁর গান নিয়মিতই মিলিয়ন ভিউ ছুঁয়েছে।
এপি ধিলনের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি রুপি (প্রায় ১১০ কোটি টাকা)। ভ্যাঙ্কুভারে তাঁর রয়েছে নিজস্ব বিশাল অট্টালিকা। গ্যারেজে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ এবং রেঞ্জ রোভারের মতো দামী গাড়ি। বর্তমানে প্রতিটি গানের জন্য তিনি বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন এবং তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি।অথচ কানাডায় নতুন জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কষ্টের। নিজের মুখেই তিনি জানিয়েছেন, একসময় তাঁকে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়েছে, আবার গ্যাস স্টেশন ও কনভিনিয়েন্স স্টোরে দীর্ঘ সময় কাজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।
২০২০ সালে ‘ব্রাউন মুন্ডে’ (Brown Munde) গানটি মুক্তির পর রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘ইনসেইন’, ‘এক্সকিউজেস’ এবং সম্প্রতি ‘উইথ ইউ’-এর মতো একের পর এক হিট গান উপহার দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।
এপি ধিলনের জীবনকাহিনি এখন অনেক তরুণ শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। রাস্তায় রাত কাটানো থেকে শুরু করে কোটি টাকার মালিক হওয়া—এই যাত্রা প্রমাণ করে, প্রতিভা ও অধ্যবসায় থাকলে কঠিন সময়ও জয় করা সম্ভব।
এপি ধিলনের এই জীবনকাহিনি প্রমাণ করে যে, একাগ্রতা আর শ্রম থাকলে রাস্তার ধুলোবালি থেকেও সাফল্যের প্রাসাদ গড়ে তোলা সম্ভব। আজ তিনি কেবল একজন গায়ক নন, বরং কোটি তরুণের কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।