প্রকাশিত:
গতকাল

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং সাধারণ নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাফি ম্হাকা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিশেষ কলামে তিনি এই নৈতিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
টাফি ম্হাকা তার নিবন্ধে ১৯৭৬ সালের অলিম্পিক বর্জনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আফ্রিকার দেশগুলো অলিম্পিক বর্জন করেছিল। তিনি মনে করেন, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি—যাকে অনেক দেশই ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করছে—সেখানে আফ্রিকার দেশগুলোর চুপ থাকা হবে তাদের নিজেদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষক ম্হাকার মতে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, তা এই ধ্বংসযজ্ঞের অন্যতম প্রধান কারণ। এমন একটি দেশে খেলতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণাকে উপহাস করার শামিল।ম্হাকা লিখেছেন, "ফিলিস্তিনি শহীদদের কবরের ওপর ফুটবল খেলা যেতে পারে না।" গাজায় হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। মরক্কো, সেনেগাল, আলজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো—যারা ইতিমধ্যে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে—তাদের উচিত সম্মিলিতভাবে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া।
জিম্বাবুয়ের এই বিশ্লেষকের আহ্বান ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক সামাজিক সংগঠন এবং অ্যাংলিকান চার্চের মতো ধর্মীয় সংস্থাগুলোও ফিফার কাছে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
অন্যদিকে, কিছু আফ্রিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বিশ্বকাপ বর্জন করলে আফ্রিকান ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে। তবে ম্হাকার যুক্তি হলো, স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য আফ্রিকা আগেও খেলাধুলায় ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আবার সেটি করার সময় এসেছে।
বিশ্লেষক ম্হাকার মতে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'শান্তি পুরস্কার' প্রদান করেন, তখন ফিফার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই অবস্থায় মরক্কো, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর, আইভরি কোস্ট, ঘানা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ফুটবল শক্তিগুলোর সমন্বিত বয়কট বিশ্ববাসীকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। এই বর্জন হয়তো যুদ্ধ তাৎক্ষণিক থামাবে না, তবে এটি প্রমাণ করবে যে ফিলিস্তিনি শিশুদের কবরের ওপর ফুটবল উৎসব আফ্রিকার দেশগুলো মেনে নেবে না।
২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপটি ইতিমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতি (যেমন: অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যু) নিয়ে সংকটে রয়েছে। জিম্বাবুয়ের এই বর্জনের ডাক যদি আফ্রিকান ইউনিয়নের (AU) সমর্থন পায়, তবে ফিফার জন্য এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।