প্রকাশিত:
গতকাল

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তির আওতায় ভারত কয়েকশ দূরপাল্লার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার তৈরি S-400 (এস-৪০০) টিয়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলা। চুক্তির আওতায় মোট ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে। এর মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১৬৮টি)। এগুলো প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (১২০টি)। এগুলো কাছাকাছি আসা ড্রোন বা ছোট যুদ্ধবিমান ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হবে।
২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সংঘটিত ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor)-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী সফলভাবে এস-৪০০ সিস্টেম ব্যবহার করেছিল। সেই সময় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মজুদ পুনরায় পূর্ণ করা এবং যেকোনো ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতেই এই 'ফাস্ট ট্র্যাক' চুক্তি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক লেনদেন নিয়ে অনেক দেশের ওপর ‘কাটসা’ (CAATSA) আইনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিলেও, ভারত তার সার্বভৌম প্রতিরক্ষা স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মস্কোর সঙ্গে দিল্লির এই ১০ হাজার কোটি টাকার চুক্তি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় বার্তা—যাতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা প্রয়োজনে ভারত কোনো এক পক্ষের ওপর নির্ভরশীল নয়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতের আকাশসীমা বিশেষ করে দিল্লি, মুম্বাই এবং উত্তর সীমান্ত এলাকা এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত হবে। এস-৪০০ সিস্টেম একই সাথে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও স্টিলথ যুদ্ধবিমানকে মুহূর্তেই আকাশ থেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম।
বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের নাম উল্লেখ না করলেও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন, ‘কমব্যাট ক্ষেপণাস্ত্র’ বলতে এস ৪০০ এবং পান্তশির ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার তৈরি এস ৪০০ বিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত ও বিধ্বংসী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি।
এই চুক্তি কেবল ভারতের সামরিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়ার সাথে ভারতের পুরোনো ও গভীর সম্পর্কের স্থায়িত্বকেও পুনর্নিশ্চিত করবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বড় একটি অংশ ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।