প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

বন্দর সূত্র জানায়, এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছিল। ওই কর্মসূচি চলাকালেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা আসায় বন্দরে লাগাতার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গেলো দুদিন ধরে বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের কেউ কাজে যোগ দেননি।
বন্দরের ৩টি টার্মিনাল- জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) সব জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি।
এ কারণে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে পারছে না। বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার ও পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের বন্দর এলাকায় প্রবেশও বন্ধ আছে। একই সঙ্গে ১৯টি অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, কর্মবিরতির সমর্থনে ডক শ্রমিকরাও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এর ফলে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় পাইলটরা বহির্নোঙরে যেতে পারছেন না। এতে বহির্নোঙর থেকে জেটিতে জাহাজ আনার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে জেটিতে ও বহির্নোঙরে অন্তত ৯টি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে গেলো শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থি সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ।
তৃতীয় দিনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। তিন দিনই কর্মবিরতির সময় শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশ কাজে যোগ না দেওয়ায় বন্দরের প্রায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে আন্দোলনের সাথে যুক্ত ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা ওই আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দর ও সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।
বদলি ও হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।
তিনি বলেন, সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের ঘোষণা না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।