প্রকাশিত:
গতকাল

আজ বুধবার সকালে লেনদেনের শুরুতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে:
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স: প্রতি ব্যারেলের দাম ৭১ ডলার ২২ সেন্ট (০.৬৪% বৃদ্ধি)।
ডব্লিউটিআই (WTI) ফিউচার্স: প্রতি ব্যারেলের দাম ৬৬ ডলার ০৫ সেন্ট (০.৬৪% বৃদ্ধি)।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকেই তেলের দাম গত বছরের জুলাই-আগস্টের পর সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার হওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে মার্কিন পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
আলোচনার মূল বিন্দু:
ইরানের অবস্থান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কূটনীতিকে গুরুত্ব দিলে সমঝোতা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত: ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শূন্যে নামিয়ে আনতে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চুক্তি না হলে পরিণতি ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে।
নতুন সমীকরণ: এরই মধ্যে চীনের কাছ থেকে ইরানের জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে মার্কিন নৌবাহিনী বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকভুক্ত তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ ইরান। যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই সতর্কতা বজায় থাকবে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সরবরাহের তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলছে:
তেলের মজুত বৃদ্ধি: আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের মতে, ২০ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত ১ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে।
ঘাটতি: তবে একই সময়ে পেট্রোল ও ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত কমেছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন আজ বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।