প্রকাশিত:
গতকাল

এটিকে কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শক্তিশালী করার ভিত্তি হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। মোট ২২টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত এই চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব, শ্রম ও পরিবেশের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
চুক্তির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, জাপানের বাজারে প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিপরীতে বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্যকে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির ফলে তৈরি পোশাক, চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং আইটি খাতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে এই সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে—কিছু পণ্যে তাৎক্ষণিক, আর কিছু পণ্যে ৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে শুল্ক পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
ইপিএ-তে বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলোচনা ও আরবিট্রেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো ই-কমার্স, অনলাইন লেনদেন এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যকে আরও নিরাপদ করবে।
জেবিসিসিআই-এর সাধারণ সম্পাদক মারিয়া হাওলাদার বলেন, "শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া বড় অর্জন, তবে জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং পণ্যের মান বজায় রাখাই হবে এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ।"
সুযোগের পাশাপাশি এই চুক্তি কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে:
জাপানি পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে সরকারের আমদানি শুল্ক-আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাপানি যন্ত্রপাতি ও ভোগ্যপণ্য সস্তা হলে দেশি নবীন শিল্পগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
জাপানি ক্রেতাদের জন্য কঠোর স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি বিধি মানতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বিদ্যমান। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৪১ কোটি ডলার, বিপরীতে আমদানি ছিল ১৮৭ কোটি ডলার। জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজুয়াকি কাতাওকা মনে করেন, শুল্ক ছাড় কেবল দামের প্রতিযোগিতায় সাহায্য করবে, কিন্তু মান নিশ্চিত করতে না পারলে জাপানি ভোক্তাদের মন জয় করা কঠিন হবে।
এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে এই ইপিএ বাংলাদেশের জন্য জীবন রক্ষাকারী কবচ হতে পারে। তবে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎস বিধি (Rules of Origin) সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে এই সুবিধার সুফল ঘরে তোলা কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।