প্রকাশিত:
গতকাল

ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বৈশ্বিক দায়িত্ব। ইন্দোনেশিয়া কেবল সংহতি প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী। তবে জাকার্তা জোর দিয়ে বলেছে, এই মোতায়েন হতে হবে জাতিসংঘের সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেটের অধীনে।
ইন্দোনেশিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ সেনা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক সোমবার জাকার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন।
মারুলি বলেন, একটি ব্রিগেড সম্ভবত ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ সেনা ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া কেবল সাধারণ পদাতিক বাহিনী নয়, বরং বিশেষায়িত কিছু ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। গাজায় বিধ্বস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠনে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, বিশেষ করে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য অভিজ্ঞ প্রকৌশলী বাহিনী। ত্রাণ বিতরণের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে শান্তিরক্ষী বাহিনী।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারকারী কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কয়েক হাজার সেনা গাজায় পৌঁছাতে পারে। এই সেনারা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর প্রথম সদস্য হবেন যারা গাজায় পৌঁছাবেন, যদিও তাদের আগমনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাহিনীটি রাফাহের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থান করবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের জন্য অফিস ও বাসস্থান নির্মাণ করা হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কানের প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ার এই পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বে দেশটির নেতৃত্বের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। ওআইসি (OIC) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিল। এটি একইসঙ্গে ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশলও বটে।
ইন্দোনেশিয়ার এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাকার্তা তার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়। যদিও এই মোতায়েন অনেকগুলো আইনি ও সামরিক বাধার ওপর নির্ভরশীল, তবুও ইন্দোনেশিয়ার এই ‘প্রস্তুতি’ গাজা সংকটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্ত গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে সেনা মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি এখনো আলোচনাধীন।