প্রকাশিত:
গতকাল

দেশের জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয় বেসরকারি খাত। কিন্তু বর্তমানে এই খাতটি বহুমাত্রিক চাপে পিষ্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইপিবি-র তথ্যমতে, নতুন বিনিয়োগের হার আশঙ্কাজনকভাবে নিম্নমুখী। অনেক বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার করতে পারছে না। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।
নতুন সরকারের প্রতি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা সুনির্দিষ্ট। তাঁরা কেবল আশ্বাস নয়, বরং বাস্তবসম্মত ‘রোডম্যাপ’ চান। তাঁদের প্রধান তিনটি দাবি হলো:
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। দাম বাড়লেও মানের নিশ্চয়তা চান তাঁরা।
বর্তমানে ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া ঋণের সুদহার কমিয়ে আনা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য।
ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে কার্যকর করা এবং ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করা।
তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানো নিয়ে চিন্তিত। বিদেশি ক্রেতারা জানতে চান বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন কতটা স্থিতিশীল। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এলডিসি উত্তরণ ঘটলে শুল্ক সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। তার আগে কাঠামোগত সংস্কার না হলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি ও ড. মাসরুর রিয়াজের মতে, রাজনৈতিক ম্যান্ডেটকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে দ্রুত কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে:
শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন।
খেলাপি ঋণের জন্য ভালো ব্যবসায়ীদের শাস্তি দেওয়া বন্ধ করে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানো।
রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ টানতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা।
"ব্যবসায়ীরা চোর-বাটপার নন, তাঁরা অর্থনীতির প্রাণ। তাঁদের যথাযথ সম্মান দিয়ে নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করতে হবে। কেবল স্থিতিশীল সরকার নয়, আমাদের প্রয়োজন স্থিতিশীল অর্থনৈতিক রোডম্যাপ।"
— আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, সভাপতি, বিসিআই।