প্রকাশিত:
গতকাল

পদক পাওয়ার খবরে নিজের অনুভূতি জানিয়ে ববিতা বলেন, “দেরিতে হলেও একুশে পদক পেয়ে আমি খুব খুশি। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, আমি জীবদ্দশায় এই পদক পেতে যাচ্ছি। এমন রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি রাষ্ট্রের প্রতি এবং যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর ববিতা তাঁর পদকটি উৎসর্গ করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তাঁর গুরু জহির রায়হান-কে। ববিতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শ্রদ্ধেয় জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা, চলচ্চিত্রে আসা। তাই আমার একুশে পদকটি তাঁকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।”
১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে জন্ম নেওয়া ফরিদা আক্তার পপির চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘সংসার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে। পরবর্তীতে জহির রায়হানের উর্দু সিনেমা ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’-র মাধ্যমে তিনি ‘ববিতা’ নাম ধারণ করেন। নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম সিনেমা ‘শেষ পর্যন্ত’ মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট। কাকতালীয়ভাবে ওই দিনই তাঁর মা মারা যান।
ববিতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৫০টিরও বেশি সিনেমা থাকলেও বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর নাম স্থায়ী হয় অস্কারজয়ী সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমার মাধ্যমে। এতে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দেশে-বিদেশে বিপুল প্রশংসা কুড়ায়। এছাড়া ‘টাকা আনা পাই’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’, ও ‘তিনকন্যা’-র মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।
চলচ্চিত্রে কৃতিত্বের জন্য ববিতা রেকর্ড সংখ্যকবার জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন:
প্রথম জয়: ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী।
টানা সাফল্য: ১৯৭৬ (নয়নমণি) এবং ১৯৭৭ (বসুন্ধরা) সালেও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।
অন্যান্য: ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ও ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’র জন্য বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার লাভ।
আজীবন সম্মাননা: ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা।
এ বছর ববিতাসহ ৯ জন গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। ববিতার এই প্রাপ্তিতে আনন্দিত তাঁর অগণিত ভক্ত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা।