প্রকাশিত:
গতকাল

দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে সীমাবদ্ধ থাকার পর, ইরান এবার তাদের নৌ-শক্তির পরিধি আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, তেহরান তাদের একটি শক্তিশালী নৌ-বহর খুব শীঘ্রই পানামা খালের মধ্য দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে এবং আমেরিকার খুব কাছাকাছি জলসীমায় মোতায়েন করতে যাচ্ছে। এই ঘোষণা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের উত্তজনাকে এক নতুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় নিয়ে গেছে।
শাহেদ মাকদাভি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে ব্রিকস নৌ মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছে, যা আঞ্চলিক জলসীমার বাইরেও উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য প্রদর্শন। প্রেস টিভির মতে, যুদ্ধজাহাজটি দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছে। এটি ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর পাঠানো অষ্টম জাহাজ, যা দূরপালালার অভিযান পরিচালনা করেছে।
ইরানের এই অভিযানে ব্যবহৃত জাহাজগুলো সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত:
১০০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্রুজ মিসাইল বহন করতে সক্ষম।ইরানের ‘শহীদ মাহদাভি’র মতো জাহাজগুলো কয়েক ডজন অ্যাটাক ড্রোন এবং হেলিকপ্টার নিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে পারে। রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা এই অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে ‘প্ররোচনামূলক’ হিসেবে দেখছে। পেন্টাগন জানিয়েছে যে তারা এই নৌ-বহরের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল এবং ভেনেজুয়েলার মতো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সাথে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুটি বার্তা দিতে চায়:
যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পারস্য উপসাগরে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার মোতায়েন করে ইরানকে চাপে রাখে, ইরানও এখন সেই একই কৌশলে আমেরিকার উপকূলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়।
ইরান দাবি করছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যেকোনো স্বাধীন দেশের বৈশ্বিক জলসীমায় চলাচলের অধিকার রয়েছে এবং তারা সেই অধিকারই চর্চা করছে।
ইরানের এই উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ যদি সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক নৌ-শক্তিতে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনে এক বড় মাইলফলক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের কাছাকাছি ইরানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি আগামী দিনগুলোতে পশ্চিম গোলার্ধে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেবে।