প্রকাশিত:
গতকাল

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি মাদাগাস্কারের উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রথম আঘাত হানে। ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়া এবং সেই সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে বিশাল এলাকা।
প্রবল বাতাসে হাজার হাজার ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং কাঁচা ঘরগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে। গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় অনেক শহর এখন বিদ্যুৎহীন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।ভারি বর্ষণে নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে, যার ফলে ধানক্ষেত ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় পানির স্রোতে রাস্তাঘাট ধসে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে দুর্গম গ্রামগুলো।
দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। তবে কর্দমাক্ত রাস্তা ও বন্যার পানির কারণে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ঘরহারা ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে অস্থায়ী স্কুল, গির্জা এবং সরকারি ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় গেজানি আঘাত হানার মাত্র ১০ দিন আগে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ফাইটিয়া মাদাগাস্কারে আঘাত করে। ওই ঝড়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
মাদাগাস্কার অতিক্রম করে গেজানি মোজাম্বিক চ্যানেল পেরিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় দক্ষিণ মোজাম্বিক উপকূলে ঘণ্টায় প্রবল বাতাসের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ে বলে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।
মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, "এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আমাদের বড় ধরণের ত্রাণ ও পুনর্গঠন সহায়তা প্রয়োজন।" জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাদাগাস্কার বারবার এ ধরনের শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। ফলে ড্রোন ব্যবহার করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, জমে থাকা পানির কারণে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পশ্চিম মাদাগাস্কারের আম্পানিহি জেলাকে ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়েছে।
মাদাগাস্কারের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতাকে আবারও মনে করিয়ে দিল। ১৬ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং ৫৯টি পরিবারের শোক কাটিয়ে ওঠা এখন দেশটির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।