প্রকাশিত:
গতকাল

আজ সোমবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যে ৭০টি আসন তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, তার মধ্যে ১৫টি আসনে (২১.৪%) সরাসরি জাল ভোট প্রদানের তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় উঠে আসা প্রধান অনিয়মগুলো হলো:
ভোটগ্রহণ শুরুর আগে বা চলাকালীন পোলিং এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা।একজনের ভোট অন্যজন দেওয়া বা মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেওয়ার ঘটনা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোট দেওয়ানোর দৃশ্যও কিছু কেন্দ্রে ধরা পড়েছে।
শুধুমাত্র জাল ভোটই নয়, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশে আরও বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করেছে টিআইবি:
১. প্রায় ৪২.৯ শতাংশ আসনে বিরোধী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে অথবা ভয় দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
২. কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষপাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৩. প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমান ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
আরো বলা হয়, এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, যদিও নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর চেষ্টা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই ভোট প্রক্রিয়ার বিশুদ্ধতা বজায় থাকেনি। ২১.৪ শতাংশ আসনে জাল ভোটের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে বড় ধরনের অন্তরায় ছিল। এটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য এক উদ্বেগজনক বার্তা।"
তবে টিআইবি’র এই প্রতিবেদনকে একপাক্ষিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। টিআইবি কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই গবেষণা করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে টিআইবি’র এই প্রতিবেদন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুশীল সমাজের মতে, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে এমন গুরুতর অভিযোগগুলো এড়িয়ে না গিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।