প্রকাশিত:
গতকাল

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এই আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি দ্রুত অবসানের দাবি রাখে।
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।
এর আগে রোববার ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা একাধিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। ফলে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের প্রয়োগক্ষমতা আরও বাড়বে। আবার এতে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির অনলাইন ইয়োনেট ও হারেৎজ জানায়, এসব ব্যবস্থার মধ্যে এমন বহু দশক পুরোনো বিধিনিষেধ বাতিলের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা পশ্চিম তীরে ইহুদি বেসরকারি নাগরিকদের জমি কেনা থেকে বিরত রাখত।
আদালতের বিচারক প্যানেল তাদের পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয় তুলে ধরেছেন। ইসরায়েল গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, তা মূলত এক ধরনের ‘স্থায়ী সংযুক্তিকরণ’ বা অ্যানেক্সেশন (Annexation), যা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আদালত জানিয়েছে, অধিকৃত অঞ্চলের সম্পদ বা ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই। ইসরায়েল সেখানে কেবল একটি ‘দখলদার শক্তি’ (Occupying Power) হিসেবে রয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য বসতি স্থাপনকে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের তাদের নিজস্ব ভূমিতে আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের বৈধ অধিকার রয়েছে। ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার খর্ব করছে এবং তাদের জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা বর্ণবাদের (Apartheid) শামিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করে এবং অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলের বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও দেশটির কর্মকর্তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বৈধ অধিকার বাস্তবায়নই এই অঞ্চলে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA) এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা মনে করে, এই রায়ের ফলে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ প্রশস্ত হলো।
বরাবরের মতোই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই রায়কে ‘একপেশে ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেল আবিবের দাবি, ঐতিহাসিক এবং নিরাপত্তার খাতিরেই এই অঞ্চলগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
যদিও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এই রায় সরাসরি কার্যকর করার মতো কোনো পুলিশি ক্ষমতা নেই, তবে এর নৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই রায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন আরও জোরালো হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল আরও বেশি কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়বে।