প্রকাশিত:
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে পা রাখার প্রাক্কালে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্ববাসীকে এক ভয়াবহ বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, পুতিন তাঁর সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং এর প্রথম পর্যায় ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে সরকারি দপ্তরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শেষ হবে ইউক্রেনের বিজয়ের মাধ্যমে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী কৌশলগত অঞ্চল ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধবিরতি করার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি পুতিন ইতোমধ্যেই এটি শুরু করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কতটা ভূখণ্ড দখল করতে পারবেন এবং তাকে কীভাবে থামানো যাবে… রাশিয়া বিশ্বে ভিন্ন জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসতে হবে। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প মনে করেন ভূখণ্ডগত ছাড়ই যুদ্ধবিরতির চাবিকাঠি।
জেলেনস্কি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়ছি। আমরা হারব না। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি পেতে হলে তা কংগ্রেসের অনুমোদনসহ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কেননা প্রেসিডেন্ট বদলায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান থাকে।
জেলেনস্কি তাঁর বক্তব্যে পুতিনের কর্মকাণ্ডকে কেন বিশ্বযুদ্ধের শুরু বলছেন, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন:
রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার সেনার উপস্থিতি এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে। জেলেনস্কির মতে, এটি ইউরোপের মাটিতে এশীয় শক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ।
ইরান নিয়মিতভাবে রাশিয়াকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তাকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছে।
পুতিন বারবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে হুমকি দিচ্ছেন, তা কেবল ইউক্রেনের জন্য নয়, বরং পুরো মানবজাতির জন্য অস্তিত্ব রক্ষার সংকট।
জেলেনস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "পুতিন কেবল ইউক্রেনে থেমে থাকবেন না। যদি ইউক্রেন পরাজিত হয়, তবে পরবর্তী লক্ষ্য হবে পোল্যান্ড বা বাল্টিক দেশগুলো।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো যদি এখন পুতিনকে পুরোপুরি পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের নিজেদের সন্তানদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামতে হবে।
জেলেনস্কির এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ক্রেমলিন। পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, জেলেনস্কি কেবল পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আরও অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা পাওয়ার জন্য ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’-এর ভয় দেখাচ্ছেন। রাশিয়ার দাবি, তারা কেবল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেনস্কির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশ একে ‘বিশ্বযুদ্ধ’ বলছে না, তবে যেভাবে উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং ন্যাটোর অস্ত্র এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, তাতে এটি একটি ‘ছায়াযুদ্ধ’ (Proxy War) থেকে বড় কিছুতে পরিণত হয়েছে।