প্রকাশিত:
গতকাল

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
ইউক্রেনে ২০১৯ সালের পর আর কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৪ সালের মে মাসে জেলেনস্কির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেও সামরিক শাসন (Martial Law) জারির কারণে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন মনে করছে মার্কিন করদাতার অর্থ ইউক্রেনে পাঠানোর ন্যায্যতা বজায় রাখতে সেখানে একটি নির্বাচিত সরকার থাকা জরুরি।রাশিয়ার সাথে যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে সই করার জন্য জেলেনস্কির একটি নতুন এবং শক্তিশালী ‘জনম্যান্ডেট’ প্রয়োজন।
রোববার ট্রাম্প প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ওই বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টির পাশাপাশি ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইউক্রেন পক্ষকে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট তাগাদা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সংবাদ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন আগামী জুনের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। মার্কিন আলোচক দল—যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার—ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তির পাশাপাশি মে মাসের দিকে একটি গণভোট বা সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা কিয়েভের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিন একাধিকবার জানিয়েছে, বর্তমান ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয় মস্কো। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কেবল যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হবে। তবে জেলেনস্কি যদি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পুনরায় বিজয়ী হন, সেক্ষেত্রে মস্কোর কোনো আপত্তি থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
ইউক্রেনের বর্তমান জনমত কিছুটা দ্বিধাবিভক্ত। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১০-২৩ শতাংশ ইউক্রেনীয় যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে। তবে যদি নির্বাচন হয়, তবে জেলেনস্কির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসতে পারে সাবেক সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি বা গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ-এর নাম।
জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং কংগ্রেস নির্বাচনই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। আমরা যাতে তাদের সেই অগ্রাধিকারের বলি না হই, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।"
আবুধাবির বৈঠকের পর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, আগামী জুনের মধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তথ্যসূত্র : আরটি, রয়টার্স