প্রকাশিত:
গতকাল

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওমানের মধ্যস্থতায় মাসকটে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ সংলাপ শুরু হওয়ার খবরে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতের যে আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল, এই আলোচনার খবর তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১.৩% কমে ৬৭.১৬ ডলারে নেমে এসেছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১.২% কমে ব্যারেল প্রতি ৬২.৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের পারমাণবিক আলোচনা একটি 'ভালো সূচনা' এবং এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ফলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই আলোচনার ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
ওমানের মাসকটে চলমান এই আলোচনা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে শুরু হয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে একটি ‘ইতিবাচক সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করার পরপরই বিশ্ববাজারে তার প্রভাব পড়ে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা দেননি, তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগের অস্তিত্বই বাজারকে শান্ত রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারে নামতে পারে। তবে এই পতন স্থায়ী হবে কি না তা নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর: ১.যদি ওমান বৈঠক ব্যর্থ হয়, তবে তেলের দাম আবারও ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২. ইরান যদি পুনরায় বৈধভাবে তেলের বাজারে ফিরতে পারে, তবে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম আরও কমবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলে সামান্য উত্তজনাও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেল।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুদ্ধের খবরের চেয়ে শান্তির খবরের দিকে বেশি আগ্রহী। ওমান বৈঠক যদি কোনো প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খরচে বড় ধরনের সাশ্রয় হবে।